হজের সফরে যেসব ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারেন
ইসলামের অন্যতম একটি স্তম্ভ হলো পবিত্র হজ। মহান আল্লাহ তাঁর সামর্থ্যবান বান্দাদের ওপর এটি ফরজ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ করা ফরজ। কেউ (এটা) অস্বীকার করলে আল্লাহ তো বিশ্বজগতের সমস্ত মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষী।
’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৭)
হাদিসের বর্ণনামতে, হজ এমন একটি ইবাদত, যদি কেউ তা পরিপূর্ণ হক আদায় করে পালন করে, তবে তা তার অতীতের সব গুনাহ মিটিয়ে দেয়।
(বুখারি, হাদিস : ১৫২১)
তবে এই আমলটি খুব সহজ নয়। এতে শারীরিক কষ্ট, ধৈর্যসহ বহু পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়, তাইতো এই আমলকে বৃদ্ধ, দুর্বল ব্যক্তি ও নারীদের জিহাদ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৯৪৫৯; আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস : ৩৫৯২)
তাই হজে যাওয়া প্রতিটি ব্যক্তির উচিত ধৈর্য ও তাকওয়ার মাধ্যমে হজের প্রতিটি আমল সুন্দরভাবে আদায় করার চেষ্টা করা।
অহেতুক কাজ থেকে বিরত থাকা। হজে যাওয়ার আগেই মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেওয়া। প্রয়োজনীয় মাসলা-মাসায়েল শিখে নেওয়া এবং সেখানকার রাস্তাঘাট, পরিবেশ-পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন ও বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া। হজের সফরের প্রতিটি মুহূর্ত যাতে নির্বিঘ্ন ও নিশ্চিন্তে আল্লাহর ইবাদতে কাটানো যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা।
এগুলোর মাধ্যমে হজের সফর আরো নিরাপদ ও আরামদায়ক হতে পারে। নিম্নে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো—
মেসেজ গান : হজে প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় হাঁটতে হয়, বিশেষ করে তাওয়াফ, সাঈ, আরাফা-মুজদালিফা-জামারাতের সময়। এতে পায়ের পেশিতে চাপ পড়ে, গোড়ালি ও হাঁটুতে ব্যথা হয়। বেশি করে বয়স্ক মানুষদের কারো কারো পায়ে তীব্র ব্যথা হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে মেসেজ গান ব্যবহার করলে পেশির গভীরে কম্পন পৌঁছে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, ফলে ব্যথা ও ক্লান্তি কমে। যাঁরা বয়সে বড় বা আগে থেকেই পায়ের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী। বর্তমানে এ ধরনের ডিভাইস অনলাইনে পাওয়া যায়।
পোর্টেবল নেক ফ্যান/মিস্ট ফ্যান : সৌদি আরবের আবহাওয়া অনেক গরম, বিশেষ করে হজ মৌসুমে অনেক গরম থাকে। ভিড়ের মধ্যে বাতাস চলাচলও কম হয়। তখন এই ফ্যানটি ঘাড়ে ঝুলিয়ে রাখলে দুই পাশে বাতাস দেয়। ফলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। হিট এক্সহসশন বা অতিরিক্ত গরমে অস্বস্তি কমাতে এটি কার্যকর। দীর্ঘ পথ হাঁটার সময় বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। অনলাইনে এই ফ্যানটিও পাওয়া যায়। তবে কেনার সময় অবশ্যই একটু ভালো মানের কিনতে হবে। যেগুলো ব্লেডলেস হবে (চুল বা দাঁড়ি আটকে যাওয়ার ভয় নেই এমন), চতুর্দিকে বাতাস ছড়ানোর অপশন আছে, দীর্ঘ সময় চার্জ থাকে, ওজনে হালকা—এসব দেখে কেনা যেতে পারে।
চাইলে মিস্ট ফ্যানও ব্যবহার করা যেতে পারে, যা বাতাসের সঙ্গে পানির খুব সূক্ষ্ম কণা বা কুয়াশা mist) ছড়িয়ে দেয়। এই পানির কণাগুলো বাতাসে দ্রুত মিশে যাওয়ার সময় চারপাশের তাপ শোষণ করে নেয়। ফলে সাধারণ ফ্যানের তুলনায় অনেক বেশি ঠাণ্ডা বাতাস অনুভূত হয়।
লোকেশন ট্র্যাকার ট্যাগ : হজে মানুষের ভিড় এত বেশি হয় যে মুহূর্তেই কেউ আলাদা হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক হাজিদের ক্ষেত্রে এটি বড় সমস্যা। অনেকে হারিয়ে গেলে হোটেলের নাম, রোডের নাম, নিজের পরিচিত কারো যোগাযোগ নম্বরও বলতে পারে না। এমন লোকদের সঙ্গে একটি লোকেশন ট্র্যাকার ট্যাগ রেখে দিলে পরিবারের সদস্য/সহযাত্রীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানতে পারবে। তবে অবশ্যই আগে থেকে দায়িত্বশীল কারো মোবাইল অ্যাপে ট্যাগটি সেট করে রাখতে হবে। এতে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে এবং দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষ ছাড়াও ব্যাগ বা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসেও এটি লাগিয়ে রাখা যায়।
পাওয়ার ব্যাংক : হজে মোবাইল ফোন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস—যোগাযোগ, ম্যাপ, জরুরি দোয়া, হজ ওমরার গাইডলাইন, পারমিট, লোকেশনের জন্য নুসুক অ্যাপ ব্যবহার, এমনকি গ্রুপ ম্যানেজমেন্টের জন্যও এটি খুব জরুরি। কিন্তু চার্জিং পয়েন্ট সব সময় সহজে পাওয়া যায় না, আর ভিড়ের কারণে অপেক্ষাও করতে হয়। তাই একটি ভালো ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক থাকলে যেকোনো সময় ফোন চার্জ দেওয়া যায়, যা নিরাপত্তা ও যোগাযোগের জন্য উপকারী।

No comments